শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত ত্রীসাম বাগান বাড়িতে কর্মরত একজন শ্রমজীবী বিধবা নারীকে উক্ত বাগান বাড়ির মালিক শ্রী মিহির কান্তি নাথ কর্তৃত্বের অপব্যবহার করে গুরুতর অপরাধ ও বলপূর্বক যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এই মর্মে ধর্মনগর মহিলা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্ত জেল হেফাজতে আছে।
এই ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে এবং প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া উক্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ন্যায়বিচারের দাবিতে এগিয়ে এলেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে আজ ২৫শে জানুয়ারী, ২০২৬ইং আয়োজিত এক গণসভা (Public Meeting)-তে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসীর উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শ্রীপুর নীরব নয়।
উক্ত সভায় শ্রী গোপীকা কান্ত দত্ত, প্যারা লিগ্যাল ভলান্টিয়ার, জেলা আইনসেবা কর্তৃপক্ষ, উত্তর ত্রিপুরা, ধর্মনগর উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন আইনি বিষয় গুলি সুস্পষ্টভাবে সকলের সামনে তুলে ধরেন।
গণসভা শেষে শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের
নিকট স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়:
- ঘটনার
বিষয়ে তাৎক্ষণিক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত
করতে হবে
- শ্রীপুর
এলাকায় অবস্থিত ত্রীসাম
বাগান বাড়ি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে
- বেআইনিভাবে
প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে
- ভুক্তভোগী
পরিবারকে আপসের জন্য যারা চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের
বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ
করতে হবে
- ভুক্তভোগী
পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
আজকের এই সভার দাবি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক আবেদন নয়, বরং এটি
ছিল শ্রীপুরবাসীর সম্মিলিত বিবেকের প্রকাশ। মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যায়বিচার কোনো আপসের বিষয় নয়, এবং অপরাধের সঙ্গে সমঝোতা সমাজ
কখনো মেনে নিতে পারে না।
এই পুরো উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ যখন সংগঠিত হয়, তখন ন্যায়বিচারের পথে শক্তিশালী চাপ তৈরি হয়। শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই গণআন্দোলন আশা জাগায়, আইনের শাসন, নারীর নিরাপত্তা এবং মানবিক মূল্যবোধ আজও সমাজে জীবিত।





